‘আমাকে কয়টি ভালো বালিশ দাও’; কিন্তু কেন ?

নিউজ ডেক্স, ৩১ মে ২০১৯: এই বালিশ শুধু নারীদের জন্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের বালিশের প্রচলন দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মার্কিন মুলুকে জনপ্রিয় একটা বালিশের নাম ‘বয়ফ্রেন্ড বালিশ’। পুরুষের হাত, গলা ও বুকের অংশের মতো করে বানানো বালিশটি জড়িয়ে ধরে নারীরা দারুণ অনুভূতি নিয়ে ঘুমাতে পারে।

বলাই বাহুল্য, বিপরীতে পুরুষদের জন্য গার্লফ্রেন্ড বালিশটা একটু অন্যরকম। মেয়েদের দুই পা ও কোমরের আদলে এটা তৈরি হয়। যেন এই বালিশে মাথা রেখে যেকোনও পুরুষ ভাবতে পারে সে তার প্রিয়তমার কোলে ঘুমুচ্ছে। এছাড়া মেয়েদের ভেতর জনপ্রিয় হয়েছে ‘মেকআউট’ বালিশ। এই বালিশে পুরুষের কৃত্রিম নরম ঠোঁট যুক্ত (তুলা, প্লাস্টিক আর স্পঞ্জ দিয়ে তৈরি) থাকে।

এই বালিশের সঙ্গে খুনসুটি করতে করতে ঘুমুতে ভালোবাসেন অনেকে। আর বাচ্চাদের মধ্যে জনপ্রিয় ‘হাত বালিশ’। বাচ্চাদের কোলে নেওয়ার মতো দুই হাতের আদলে এই বালিশ তৈরি হয়, যেন বাচ্চারা অনুভব করতে পারে তারা মা-বাবার কোলেই আছে!

বালিশ নিয়ে মানুষের আদিখ্যেতার অন্ত নেই! এদেশের গরিব ধনী নির্বিশেষে বাসর রাতে যেমন নতুন বালিশ খোঁজে, ঠিক তেমনি কখনও কখনও খুনের পর কেউ কেউ  হুংকার দিয়ে বলে, দিছি শালারে বালিশ ছাড়া শোয়াইয়া! কবরে বালিশ থাকে না, সেটাই বাস্তবতা। ২০১৯ সালের মে মাসে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের গ্রিনসিটি প্রকল্পের (২০ তলা ভবন নির্মাণ হচ্ছে সেখানে।

২০ তলায় বালিশ তুলতে ৭৬০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে) কর্মকর্তাদের বালিশ কেনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। বালিশ হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র এবং সমালোচনার ইস্যু। যারা কুলিগিরি করেন তারা নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতে শুরু করেন। তারা দাবি তোলেন, নরম মোলায়েম বালিশ নিচ থেকে ওপরে তুলতে যদি ৭৬০ টাকা লাগে তাহলে আমাদের বোঝা বহনের ন্যূনতম মজুরিও ৭৬০ টাকা করতে হবে। উল্লেখ্য, এই রূপপুর প্রকল্পে একটা বালিশের মূল্যমান দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। যারা এটা নিয়ে সমালোচনা করছেন তাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও একটি তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে।

নেদারল্যান্ডসের এক ফিজিওথেরাপিস্ট থিস ভ্যান ডার হিস্ট ১৫ বছর পরিশ্রম করে এক অভিনব বালিশ তৈরি করেছেন, যার মূল্যমান ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মালবেরি রেশম আর মিশরের তুলা দিয়ে বালিশটি তৈরি করেছেন হিস্ট। এই বালিশে চব্বিশ ক্যারেট গোল্ড আর বালিশের চেইনে বাইশ ক্যারেটের নীল রত্ন ব্যবহার করা হয়েছে। এই তথ্য সম্ভবত এ কারণে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ৪৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা একটা বালিশের দাম, সেখানে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা তো একবারেই নস্যি। এ দেশের এক অর্থমন্ত্রী একবার বলেছিলেন, ‘চার হাজার কোটি টাকা তেমন বেশি না!’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares