হজে নেয়ার নামে ধোকাবাজি করে কোটি টাকা নিয়ে পলাতক মোয়াল্লেম তাজুল

নিউজ ডেক্স২৭ জুন ২০১৯: তাজুল ইসলাম ফারিহা ওভার সীজ নামে একটি হজ্ব এজেন্সির মোয়ালে­ম হিসেবে কাজ করতেন। শরীয়তপুরে কোটি টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে তাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।

ফারিহা ওভারসীজ নামে তাদের শরীয়তপুর শহরে ও রাজধানীর পুরানা পল্টন হেড অফিস রয়েছে লাইসেন্স নম্বর ৭৬৮। সে শরীয়তপুরের পৌর এলাকার হাজরাসার গ্রামের ইসমাইল খানের ছেলে। এ ঘটনায় শরীয়তপুর পালং থানায় মামলা ও জেলা পুলিশ সুপার অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন প্রতারণার শিকার হজ্বে যাওয়ার যাত্রীরা।এর মধ্যে হজ্বের জন্য টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ছে পালং থানার সাবেক (ওসি) মনিরুজ্জামান, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মদ তালুকদার, ডামুড্যার কামাল মাস্টার সহ প্রায় ৪০ জন হজ্ব যাত্রী।

মামলার আগে থেকেই তাজুল ইসলাম আত্মগোপনে রয়েছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফারিহা ওভারসীজে মোয়ালে­ম হিসেবে তাজুল ইসলাম প্রায় ৬ বছর যাবৎ কাজ করছে। আগের বছর গুলোর তুলনায় এই বছর হজ্ব যাত্রী বেড়ে যায় যার পরিমাণ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো।প্রত্যেক হজ্ব যাত্রীর সাথে মোয়ালে­ম তাজুল ইসলামের হজ্বের সব রকম খরচ বাবদ ৩ লক্ষ বিশ হাজার টাকা চুক্তি ছিলো। বেশিরভাগ হজ্ব যাত্রীরা তাকে সড়ল মনে বিশ্বাস করে পুরো টাকা আগেই দিয়েছিলো।

কিছু সংখ্যক হজ্ব যাত্রীর টাকা ফারিহা ওভারসীজের ব্যাংক একাউন্টে জমা করলে ও বেশি সংখ্যক যাত্রীর টাকা তার কাছে রেখে দেয় পরে সময় ও সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে তাজুল প্রায় দুই মাস আগে হজ্ব যাত্রীদের সব টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় প্রায় ৪০ জন হজ্ব যাত্রীর হজ্বে যাওয়া অনিশ্চত হয়ে পরেছে।এবিষয়ে ভুক্তভোগী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মদ তালুকদার বলেন, আমি সহ আমার পরিবারের চার জন হজ্বে যাওয়ার জন্য দুুই থেকে তিন মাস আগে ফারিহা ওভার সীজের মোয়ালে­ম তাজুল এর কাছে ৬ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেই, তার কিছু দিন পর থেকে তাজুলের আর কোন খোজ খবর পাইনা।

পরে হজ্ব এজেন্সি ফারিহা ওভার সীজের কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলে তাজুল অনেক আগে থেকেই আমাদের এই খানে কাজ করে না তার থেকে আমরাও টাকা পাই।আর এক ভুক্তভোগীর ছেলে আরাফাত বলেন আমি আমার বাবা মায়ের হজ্বে যাওয়ার জন্য ৬ লক্ষ টাকা দেই ২০১৮ সালে সেই বছর তাজুল বলে আপনাদের টাকা দিতে দেরি হয়ে গেছে আপনাদের আগামী বছর নিবো যেহেতু বলছে আগামী বছর নিব এজন্য টাকা ও নেই নাই তার কাছ থেকে এই বছর তার সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তার মোবাইলে ফোন দিলে ফোন বন্ধ বলে।

এই বছরে ও আমার বাবা মায়ের হজ্বে যাওয়া হলো না।এবিষয়ে ফারিহা ওবার সীজের মালিক ফজলুর রহমান বলেন, তাজুল পালানোর পর অনেকেই আমার কাছে আসছিলো, আমাকে বলে কেউ টাকা দেয় নাই। তার পর ও আমি তাজুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নিচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares