প্রশ্ন উঠেছে; এরশাদের মৃত্যুর পর কারা পাচ্ছেন এরশাদের সম্পদ?

নিউজ ডেক্স১৪ জুলাই ২০১৯: ১৪ জুলাই, রবিবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় সূত্রপাত হয়েছে, এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ কান্ডারি বা চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন। আর তার রেখে যাওয়া সম্পদই বা কারা কারা পাবেন। দলের নীতি-নির্ধারণী কমিটিতে কোনো যোগ-বিয়োগ হচ্ছে কিনা। কে হচ্ছেন জাতীয় পার্টির কান্ডারি? : হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পরে দলের হাল ধরা নিয়ে পূর্বেই কয়েকবার বিভক্ত হয়েছিল জাতীয় পার্টি।

বর্তমানে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জিএম কাদের। কিন্তু এর আগে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে চিকিৎসা শেষে ফিরেই দলের কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে জিএম কাদেরকে সরিয়ে দেন এরশাদ। ঠিক এর পরের দিন বিরোধী দলের উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদেরকে।

কারা পাচ্ছেন এরশাদের সম্পদ? : আলোচনায় এসেছে এরশাদের সম্পদও। তার বিপুল সম্পতির মালিকানা কে বা কারা পাচ্ছেন। তার পুত্র এরিক এরশাদ, না তার প্রথম স্ত্রী রওশান এরশাদ? নাকি অন্য কেউ? তবে এরশাদ তার সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি একটি ট্রাস্টের নামে দান করেছেন। গত ৭ এপ্রিল রাজধানীর বারিধারায় তার নিজের বাসভবনে পাঁচ সদস্যের এই ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে লিখিতভাবে বোর্ডকে সম্পত্তি দান করেন এরশাদ। এই ট্রাস্টের নাম কি দেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি।

এরশাদ ছাড়া ট্রাস্টি বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন, এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ, একান্ত সচিব মেজর (অব.) খালেদ আক্তার, চাচাতো ভাই মুকুল ও তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।এই ট্রাস্টের সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসা, গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট, বাংলামোটরের টাইলসের দোকান, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় স্থাপিত পদাগঞ্জ কোল্ড স্টোরেজ, রংপুর শহরের মডার্নের নিজ বাসা পল্লী নিবাস, পিতার নামের মকবুল হোসেন হাসপাতাল, রংপুরে জাতীয় পার্টির সুবিশাল কার্যালয়, ১০ কোটি টাকার ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিট।

এরশাদকে এই ট্রাস্ট গঠনের যাবতীয় কাজ তদারকি করেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম।পার্টির কয়েকজন নেতা বলেন, গত জানুয়ারিতেও একবার এরশাদ তার সমস্ত সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করে দিয়েছেন বলে তারা শুনেছিলেন। তখন তার সম্পত্তির একটি বিবরণ ও কাকে কী সম্পত্তি দেওয়া হলো, এমন কথাও জেনেছিলেন।

জাতীয় পার্টির নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এরশাদ তার বড় ছেলে আল মাহিগীর শাদ এরশাদ (রওশন এরশাদের সঙ্গে থাকেন), ছোট ছেলে শাহতা জারাব এরিক (বিদিশা এরশাদের ঘরের), পালিত কন্যা জেবিন (লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন) ও ভাই-ভাতিজার মধ্যে বড় সম্পদের বড় অংশ ভাগ করে দেন। কিছু সম্পদ এরশাদের কয়েকজন পালিত কন্যা এবং কিছু সম্পত্তি পার্টির অফিস ও এতিমদের জন্য ট্রাস্টে দেওয়া হয়েছে বলেও তখন প্রচার পায়।

এরশাদের কী পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে? জানতে চাইলে পার্টির কয়েকজন নেতা জানান, রংপুরে বিপুল পরিমাণ ভূসম্পত্তি এবং রংপুর সদরের পদাগঞ্জে কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। গুলশান-২-এর বাড়িটি রওশন এরশাদকে দিয়েছেন এরশাদ বহু আগেই। বারিধারার ১০ নম্বর দূতাবাস রোডের ‘প্রেসিডেন্ট পার্ক’ যেখানে তিনি নিজে বসবাস করেন সেটি তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদের একমাত্র ছেলে এরিক এরশাদের নামে দেওয়া হয়েছে।

তারা দাবি করেন, পালিত পুত্র আরমানকে দেওয়া হয়েছে গুলশানের অপর একটি ফ্ল্যাট। রংপুরের সম্পত্তি পেয়েছেন তার ভাই জি এম কাদের ও এক ভাতিজা। রংপুরের জাতীয় পার্টি অফিস দলকে দান করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares